প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসএমই ফাউন্ডেশন

হালকা প্রকৌশল খাতে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশের হালকা প্রকৌশল খাতে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

দেশের হালকা প্রকৌশল খাতে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। অন্যদিকে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য করপোরেট করহার ১২ শতাংশ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে রিসাইকেল ফাইবার (পুনর্ব্যবহারযোগ্য সুতা) উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি। বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে গতকাল আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল খাতে দেশেই তৈরি হয় এমন কিছু ফিনিশড গুডস যেমন কিচেনওয়্যার, টেবিলওয়্যার, কবজা ইত্যাদি আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

এ প্রস্তাবের বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা অবান্তর এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বহির্ভূত প্রস্তাব। এতে লক্ষ‍্য পূরণ হবে না। ২০২৬-এর পর থেকে এ ধরনের কাজ আর করা যাবে না। যে উদ্দেশ‍্যে এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে তার সমাধান অন‍্যভাবে করা যেত বা যাবে।’ এসএমই ফাউন্ডেশনকে সে লক্ষ‍্যে কাজ করার পরামর্শও দেন এনবিআরের সাবেক এ সদস্য।

এদিকে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসএমই ফাউন্ডেশনের এমডি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল পাচার হয়ে ভারতে ব্র্যান্ডিংয়ের পর আবার আমদানির নামে দেশে প্রবেশ করছে, যা রাজস্ব হারানো ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এতে বৈধ আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তাই আমদানিতে উৎস দেশের সনদ বাধ্যতামূলক, উৎস যাচাই, শুল্কহার ও সীমান্তে কাস্টমস তৎপরতা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, ‘অনেক কোম্পানি কম শুল্কে সেমিফিনিশড পণ্য আমদানি করে সামান্য ভ্যালু এডিশন করে বাজারজাত করে থাকে। এতে স্থানীয় এসএমই উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তাই এসব পণ্যের ওপর ফিনিশড গুডসের সমপরিমাণ বা ন্যূনতম শুল্ক আরোপ ও মিনিমাম ভ্যালু নির্ধারণ প্রয়োজন।’

বিজিএমইএ বলছে, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য করপোরেট করহার ১২ শতাংশ এবং এলইইডি সার্টিফিকেট কারখানার জন্য ১০ শতাংশ নির্ধারিত আছে, যা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তৈরি পোশাক শিল্পে করপোরেট ট্যাক্স হার পরিবর্তন করা হলে স্থানীয় ও বিদেশী উদ্যোক্তাদের আস্থার ঘাটতি দেখা দেবে।

আলোচনায় বিজিএমইএর সহায়ক কমিটির সদস্য এনামুল হক বলেন, ‘গ্যাসের দাম বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কীভাবে সামলাব জানি না। আবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপদে আছেন। আমাদের হাতে মাত্র তিন মাস সময় রয়েছে, এর মধ্যে ট্যারিফ নিয়ে সমাধানে যেতে হবে।’ তৈরি পোশাক শিল্পে করপোরেট করহার পরিবর্তন করা হলে স্থানীয় ও বিদেশী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেখা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরকে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামাদি পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কর রেয়াতসহ বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

এ সময় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সোলার সিস্টেমের ওপর কর মওকুফ প্রয়োজন। সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা সেখানে সরকারের সহযোগী ভূমিকা চাচ্ছি। আমরা সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই। এটার ওপর সরকার কোনো কিছু না রেখে সম্পূর্ণ ফ্রি করা উচিত। তাহলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন, খরচ কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস করনীতির পরিবর্তন হবে। বর্তমান করনীতি নিয়ে আমি অনেক কথা বলেছি যে কোনোভাবেই এটা বিনিয়োগ বা ব্যবসার জন্য সহায়ক নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা এবার ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করব। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে কর সুবিধা নিচ্ছেন। তারা ধারাবাহিকতা চান। কিন্তু আমরা অভিযোগ পাই যে করহারের চেয়ে ইফেক্টিভ করহারের যোজন যোজন ফাঁরাক।’ এগুলো যতটা সম্ভব সহজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও